Description
Varot Sundori Kul Plant
ভারত সুন্দরী কুলের উপকারিতা, গাছ লাগানোর নিয়ম এবং পরিচর্যা
ভারত সুন্দরী কুল এক ধরনের উন্নত জাতের কুল, যা দেখতে আকর্ষণীয় এবং খেতে সুস্বাদু। এই কুল সাধারণত আকারে বড়, মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং রসালো হয়ে থাকে। এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি ফলের জাত, কারণ এর ফলন ভালো এবং বাজারমূল্যও বেশ ভালো পাওয়া যায়।
১. ভারত সুন্দরী কুলের উপকারিতা
স্বাস্থ্যগত উপকারিতা:
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ – এতে ভিটামিন C, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
হজমশক্তি বাড়ায় – এতে থাকা ফাইবার হজমের জন্য উপকারী এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী – এই কুলের প্রাকৃতিক চিনি রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
ত্বকের জন্য ভালো – ভিটামিন C ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং বার্ধক্যজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।অর্থনৈতিক উপকারিতা:
উচ্চফলনশীল জাত – এই জাতটি প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক।
বাজার চাহিদা বেশি – ভারত সুন্দরী কুলের স্বাদ ও আকর্ষণীয় রঙের জন্য এটি বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
দ্রুত বিক্রয়যোগ্য – এটি সংরক্ষণ করা সহজ এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকে, তাই সহজেই বিক্রি করা যায়।—
২. ভারত সুন্দরী কুল চাষের নিয়ম
ক) মাটি ও জলবায়ু
উর্বর দোআঁশ মাটি ও বেলে দোআঁশ মাটি এই কুল চাষের জন্য আদর্শ।
সঠিক জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে পানি জমে না থাকে।
উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভালো ফলন দেয়, তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা গাছে প্রভাব ফেলতে পারে।খ) চারা রোপণের সময়
বর্ষা মৌসুমের শেষ বা শরৎকাল (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) এবং বসন্তকাল (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) চারা লাগানোর জন্য উপযুক্ত সময়।গ) চারা রোপণের পদ্ধতি
গর্ত তৈরি: প্রতি চারা রোপণের জন্য ২-৩ ফুট গভীর ও ২-৩ ফুট চওড়া গর্ত করুন।
সার প্রয়োগ: প্রতি গর্তে ৫-৭ কেজি গোবর সার, ১০০ গ্রাম টিএসপি, ৫০ গ্রাম এমওপি সার ভালোভাবে মিশিয়ে রাখুন।
চারা লাগানো: সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা গর্তে বসিয়ে মাটি দিয়ে চাপা দিন এবং পর্যাপ্ত পানি দিন।
দূরত্ব: এক গাছ থেকে আরেক গাছের দূরত্ব ১২-১৫ ফুট রাখুন।—
৩. ভারত সুন্দরী কুল গাছের পরিচর্যা
ক) পানি সেচ
শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত ৭-১০ দিন অন্তর সেচ দেওয়া উচিত।
বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি জমে গেলে তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।খ) সার প্রয়োগ
প্রতি বছর সার প্রয়োগ করুন:গোবর সার – ১০-১৫ কেজি
ইউরিয়া – ২০০ গ্রাম
টিএসপি – ১৫০ গ্রাম
এমওপি – ১০০ গ্রাম
সার প্রয়োগের সময়:বর্ষার আগে (জুন-জুলাই)
ফুল আসার আগে (নভেম্বর-ডিসেম্বর)
ফল ধরা শুরু হলে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ)
গ) রোগবালাই ও প্রতিকার
ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ:প্রতি ১৫ দিন অন্তর ৫ মিলি ডেসিস বা সুমিথিয়ন ১ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
গাছের পাতা ঝরে যাওয়া:ট্রাইকোডার্মা বা কপার অক্সিক্লোরাইড স্প্রে করুন।
কুলের পচন রোগ:বোর্দো মিশ্রণ (১%) বা কপার অক্সিক্লোরাইড ৪ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
ঘ) ছাঁটাই (Pruning) ও পরিচর্যা
গাছের বৃদ্ধির জন্য শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করা জরুরি।
গ্রীষ্মকালে (মে-জুন) অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কেটে ফেলুন।
বাতাস চলাচলের সুবিধার জন্য গাছের মাঝখান ফাঁকা রাখুন।—
৪. ভারত সুন্দরী কুল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
চারা রোপণের ২-৩ বছরের মধ্যে ফল ধরতে শুরু করে।
জানুয়ারি-মার্চ মাসে ফল সংগ্রহের উপযুক্ত সময়।
ফল পরিপক্ক হলে নরম হয়ে আসে এবং গাঢ় হলুদ বা হালকা লালচে রঙ ধারণ করে।
সংরক্ষণের জন্য ঠাণ্ডা ও শুকনো স্থানে রাখতে হবে।
বাজারজাত করার জন্য ফল পরিষ্কার করে ঝুড়ি বা কার্টনে সংরক্ষণ করা ভালো।—
উপসংহার
ভারত সুন্দরী কুল একটি লাভজনক ও সহজে চাষযোগ্য ফলের জাত। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করলে কৃষকরা বাম্পার ফলন পেতে পারেন। তাছাড়া, এটি শুধু কৃষি ব্যবসার জন্য নয়, পুষ্টিগুণের কারণে ব্যক্তিগত বাগানের জন্যও দারুণ একটি ফল গাছ।
আপনি কি ভারত সুন্দরী কুল চাষ করতে চান? আপনার এলাকায় এই জাতের চারা সহজলভ্য কি না জানতে চাইলে আমাকে জানান!
Know More Details Just Call- 01861543144
Got Nursery Related Tips and Trikes Please Join Our Facebook Group















Reviews
There are no reviews yet.