Description
Pink Jackfruit tree Plant Thai
পিংক কাঁঠালের পরিচিতি, উপকারিতা, চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা
পরিচিতি
পিংক কাঁঠাল হল কাঁঠালের একটি বিশেষ জাত, যা মূলত লালচে বা গোলাপি বর্ণের হয়ে থাকে। এটি সাধারণ কাঁঠালের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় এবং স্বাদেও বেশ সুগন্ধযুক্ত ও মিষ্টি। পিংক কাঁঠালের বীজ সাধারণত নরম হয় এবং এটি সহজেই চিবানো যায়।
পিংক কাঁঠালের বৈশিষ্ট্য:
ফলের খোসা সাধারণত সাধারণ কাঁঠালের মতো হলেও ভেতরের কোষা গোলাপি বা লালচে রঙের।
এর স্বাদ মিষ্টি এবং সুগন্ধি বেশি।
গাছ সাধারণ কাঁঠালের মতোই বড় হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী।
এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A, C, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবার থাকে।
পিংক কাঁঠালের উপকারিতা
1. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: এতে থাকা ভিটামিন C ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
2. চোখের জন্য উপকারী: এতে প্রচুর ভিটামিন A রয়েছে, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
3. হজম শক্তি উন্নত করে: ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
4. হাড় ও দাঁতের জন্য ভালো: এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে।
5. ওজন কমাতে সহায়ক: কম ক্যালোরিযুক্ত এবং ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে।
6. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে: পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
পিংক কাঁঠাল চাষের নিয়ম
১. মাটি ও আবহাওয়া
উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পিংক কাঁঠালের গাছ ভালো জন্মায়।
দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে এটি ভালো ফলন দেয়।
মাটির pH ৫.৫-৭.০ হলে চারা ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
পর্যাপ্ত রোদ ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ পছন্দ করে।
২. চারা রোপণের সময় ও পদ্ধতি
- যেকোনো সময় গাছ লাগানো যায়।
- তবে নিয়মিত পানি দিতে হবে।
- টবে বা মাঠে লাগানো যায়।
গর্তের আকার:
২.৫ x ২.৫ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে ১০-১৫ দিন খোলা রাখতে হবে।
প্রতি গর্তে ১৫-২০ কেজি গোবর সার, ৩০০ গ্রাম টিএসপি, ২০০ গ্রাম এমওপি মিশিয়ে দিতে হবে।
চারা লাগানোর দূরত্ব:
গাছ থেকে গাছ ২৫-৩০ ফুট দূরত্ব রাখতে হবে, কারণ এটি বড় আকৃতির গাছ হয়।
কলম করা চারা লাগালে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
৩. সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা
সার প্রয়োগ:
বছরে ২ বার (ফল আসার আগে ও পরে) জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হবে।
৩ বছর বয়সী গাছের জন্য ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৩০০ গ্রাম টিএসপি, ২০০ গ্রাম এমওপি প্রয়োগ করা উচিত।
সেচ:
গ্রীষ্মকালে প্রতি ১০-১৫ দিন অন্তর সেচ দিতে হবে।
বর্ষার সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
পিংক কাঁঠাল গাছের পরিচর্যা
১. গাছের বৃদ্ধি ও ছাঁটাই
গাছের আকৃতি ঠিক রাখতে প্রতি বছর ১-২ বার ছাঁটাই করা দরকার।
শুকনো ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে ফেলতে হবে, যাতে নতুন ডাল বের হতে পারে।
২. পোকামাকড় ও রোগ দমন
পোকামাকড়:
ফল ছিদ্রকারী পোকা ও শুঁয়োপোকা আক্রমণ করতে পারে।
জৈব কীটনাশক বা নিমতেল স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
রোগ:
ছত্রাকজনিত রোগের জন্য প্রতি ১৫ দিন অন্তর বোর্দো মিশ্রণ বা কপার অক্সিক্লোরাইড স্প্রে করতে হবে।
গাছের নিচে যাতে পানি না জমে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ফল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
ফল পরিপক্ক হলে খোসা লালচে বা গোলাপি রঙ ধারণ করে।
ফল সংগ্রহের পর ৪-৫ দিন ভালো থাকে, তবে ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করলে কিছুদিন বেশি রাখা যায়।
উপসংহার
পিংক কাঁঠাল শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য। সঠিক পরিচর্যা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এবং বাণিজ্যিকভাবে চাষ করলে লাভজনক হতে পারে।
আপনি কি পিংক কাঁঠালের চারা সংগ্রহ বা বাণিজ্যিক চাষ সম্পর্কে আরও জানতে চান?
Know More Details Just Call- 01861543144
Got Nursery Related Tips and Trikes Please Join Our Facebook Group














Reviews
There are no reviews yet.